এসইও কিভাবে কাজ করে, চলুন জেনে নেই।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে এসইও খুব গুরত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। অনলাইন ইনকাম বা অনলাইন উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যেকেই চায় মানুষ যাতে ভিজিটর হয়ে তার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে।

আপনি নিশ্চয়ই চান না শুধু একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে বসে থাকতে! ভিজিটর যদি আপনার সাইটের খোঁজ না পায় তাহলে ওয়েবসাইট করা না করা সমান হয়ে য়ায়। 

প্রশ্ন হল, আপনার সাইট সম্পর্কে ইন্টারনেট ইউজার কিভাবে খোঁজ পাবে? সহজ উত্তর – সার্চ ইঞ্চিনের মাধ্যমে, যদি আপনার সাইটে সঠিকরুপে এসইও কাজ সম্পন্ন করা থাকে।

এর জন্য সবার আগে আপনার জানা দরকার এসইও কি?  এর পরের বিষয় হল – এসইও কিভাবে কাজ করে।

তাই আলোচ্য পোষ্টে এসইও কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।

চলুন – শুরু করি।

এসইও কিভাবে কাজ করে?

এসইও কিভাবে কাজ করে – বিষয়টি সম্পর্কে একটি পরিস্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যদি আপনি একজন ডিজিটাল মার্কেটার হতে চান বা অনলাইনে কোন পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে চান।

আজকাল, ভোক্তা সাধারণ অনেক বেশী পরিমানে সার্চ ইঞ্জিন নির্ভর হয়ে গিয়েছে। ছোট জিনিস ছোট খুজে পেতেও তারা গুগলের সহায়তা নেওয়া একটি অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।

এর অর্থ এই দ্বারায়, আপনি যেকোন ধরণের পণ্য বা সেবা সম্পর্কিয় একটি ব্যবসা শুরু করুন না কেন আপনার টার্গেট অডিয়েন্স ঐ জাতীয় কোন পণ্য খুজে পাওয়ার জন্য সার্চ ইঞ্জিন বা গুগল থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করবে। আপনি যদি তাদেরকে আকৃষ্ট করে আপনার সাইটে নিয়ে আসতে চান তখন আপনাকে অবশ্যই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে হবে। আপনার সাইটে অরগানিক ভিজিটর নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এর বিকল্প কোন উপায় নেই।

অরগানিক ভিজিটর হল ঐ সব ট্রাফিক যাদেরকে ওয়েবসাইটে নিয়ে আসার জন্য কোন প্রকার বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

এসইও কিভাবে কাজ করে জানার আগে এসইও কেন এত অপরিহার্য – বিষয়টি পড়ে আসতে পারেন। এর উপর আলাদা একটি পোষ্ট তৈরি করা হয়েছে।  যা দেখে নিলে এসইও সম্পর্কে ধারণা আরোও পরিস্কার হবে।

এসইও হল- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর সংক্ষিপ্ত রুপ । এসইও এমন এক কৌশল যা প্রয়োগ করে আপনি সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েবসাইটের মর্যাদা বা ranking এর উন্নতি করতে পারেন।

যাহোক, বর্তমান ডিজাটাল জগতে এসইও এর যেহেতু যথেষ্ট ‍গুরত্ব রয়েছে, তাই এসইও কিভাবে কাজ করে বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের একটি স্বচ্ছ ও সাধারণ ধারণা থাকা প্রয়োজন।

এসইও কিভাবে কাজ করে তা জনার জন্য এসইও কিছু মৌলিক নীতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। তারপর আপনি সেগুলোর সংযোগ ঘটিয়ে পরীক্ষা করার মাধ্যমে আপনার একটি স্বাতন্ত্র কৌশল তৈরি করে নিজ ক্ষেত্রে পরীক্ষামুলকভাবে প্রয়োগ করে দেখুন কাজ করে কিনা।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন প্রক্রিয়া দিন কে দিন পরিবর্তন হচ্ছে। আজ যেটি নতুন কৌশল কাল সেটা পুরান হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছরই যারা এসইও নিয়ে কাজ করে তারা নতুন নতুন পদ্ধতির সাথে পরিচিত হচ্ছে এবং তা অবশ্য করণিয় উপায় হিসাবে আলিঙ্গন করে চলছে। আর তখন আগের কৌশল গুলো ইতিহাসের কোনায় স্তুপাকারে জমে যাচ্ছে। এজন্য, গুগল এলগরিদমকে ধন্যবাদ তাদের নতুন নতুন আপডেট নিয়ে আসার জন্য।

এই আলোকে, অনেকের মতেই এসইও হল একটি কখনোও শেষ হওয়ার নয় এমন একটি প্রযুক্তি বা কৌশল হিসাবে পরিগনিত হচ্ছে। এর ফলে মাঝে মাঝেই এসইও পেশাজীবিরা হঠাৎ করে তাদের ট্রাফিক কিছু সময়ের জন্য কমে যাওয়া দেখে হতাস হয়ে যায়।  

কিন্তু বিষয়টি কি শুধু তাই? সত্যিকার অর্থে এসইও কিভাবে কাজ করে?

এই আর্টিকেল আজকের দিনের এসইও নিয়ে আলোচনা করা হবে, এসইও এর কিছু মৌলিক নীতি তুলে ধরা হবে যা সার্চ ইঞ্জিনের সাথে সম্পর্কিত। এছাড়া কেন একাধিক কৌশল মিলিয়ে পরীক্ষামুলকভাবে দেখার পর  একটি যুতসই কৌশল নির্ধারণ করে এগুতে হবে – তা ব্যাখ্যা করা হবে।  

এরপরের প্রসঙ্গ হল – এসইও কিভাবে করতে হয়।

পরিবর্তশীল এসইও নতুন কিছু দৃষ্টিভঙ্গি

মুল আলোচনা শুরুর পূর্বে চলুন দেখে নেই আজকের দিনে এসইও কেমন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগুচ্ছে? আমরা জানি যে কোন প্রতিযোগীতামুলক keyword দিয়ে search করলে search result অনুযায়ি প্রথমে গুগল এক বা একাধিক এড সম্বলিত ফলাফল প্রদর্শন করে। তারপর অরগানিক result চলে আসে।

এভাবেই বিগত কয়েক বছর যাবত চলে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালের গুগল এলগরিদমের আপডেট অনুযায়ি “people also ask” নামে  ইউজারদের নিকট নতুনভাবে দেখার একটি বিষয় সামনে এল- যা নিচের চিত্রে প্রদর্শিত হল। 

এর মাধ্যমে প্রতিয়মান হয় যে, আমরা সার্চের একচুয়াল ফলাফল গুগলের প্রথম পৃষ্ঠার প্রায় অর্ধেকের পর থেকে পাচ্ছি। প্রথম অর্ধেকে গুগলের বিজ্ঞাপন, people also ask বা অনেক ক্ষেত্রে কিছু ভিডিও ফলাফল প্রদর্শনের পর তার পর সার্চে আসল তথ্যগুলি পাচ্ছি যা আগে ছিলনা।

এর দ্বারা কি বুঝা যাচ্ছে- মানে হতে পারে গুগল বা অন্যান্য search engine অর্গানিক ফলাফলকে suppress বা দমিয়ে রাখার নীতি গ্রহণ করছে।

যদিও গুগল এখন পর্যন্ত তার প্রথম পেজে সার্চের ১০ টি ফলাফলই দেখাচ্ছে কিন্তু এর আগে বিজ্ঞাপন, answer box, people also ask এবং অন্যান্য উইজেট জায়গা দখল করেছে।

এটি কিছুটা হতাসাব্যঞ্জক যে, ২০১৫ সালের পর থেকে অর্গানিক click through rate বা CTR ৩৭% কমে গেছে এবং মনে হচ্ছে ভবিষ্যমে আরোও কমে যাওয়ার ধারাবহিকতা অব্যাহত থাকবে।

অথচ গুগলে অর্গানিক পদ্ধতিতে কোন ওয়েবসাইটের পক্ষে rank করা আরোও অধিক প্রতিযোগীতাপূর্ণ, কঠিন ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। 2018 সালের পর থেকে এসইও পেশাজীবিদের টিকে থাকতে আরোও সময় ও অর্থের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।

এজন্যই আপনি একজন এসইও প্রোফেশনাল হয়ে থাকলে আপনার জন্য এটি জানা খুবই জরুরি যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসইও কিভাবে কাজ করে এবং কৌশলগত দিক থেকে নতুন কি কি পরিবর্ত এসইও নীতিতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। যা প্রয়োগ করে আপনি আপনার ওয়েবসাইট ranking এর জন্য নতুন নীতি কৌশল গ্রহণ করতে পারেন।

আজকের এসইও  জগতের মৌলিক কিছু নীতি

Link এখনোও কাজ করে

এসইও এর শুরুর লগ্ন থেকে link তৈরি করা একটি গুরত্বর্পর্ণ উপায় হিসাবে কাজ করে আসছে। এখন পর্যন্তও গুগলে কোন ওয়েবসাইটের চমৎকার কর্মক্ষমতার জন্য link building সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ সূচক হিসাবে বিবেচিত রয়েছে।

আপনি আপনার ওয়েবসাইটের সাথে সম্পর্কযুক্ত উচ্চমান সম্পন্ন যত বেশী link তৈরি করবেন, আপনার সাইটের ranking বা SERPs ততই ভাল হবে।

এক কথায় বলতে গেলে, links এখনোও এসইও কাজের একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গ। এজন্য আপনার এসইও চেষ্টার অংশ হিসাবে লিংক তৈরির জন্য আপনাকে সময় ও অর্থ উভয়েরই বিনিয়োগ করতে হবে।

সাইটের প্রাসঙ্গিকতা এবং বিষয়বস্তুর অপটিমাইজেশন

লিংক না কনটেন্ট – এই দু’টির মধ্যে কোনটি আগে? এটি নিয়ে অনেকটা মুরগি ও ডিমের মতই দ্বিধা রয়েছে। ওয়েবসাইটের জন্য ভাল কনটেন্ট প্রয়োজন যা অন্য সাইটের লিংক পেতে আপনাকে সহযোগীতা করে।

অপরদিকে আপনার সাইটের সাথে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সাইটের লিংক থাকা প্রয়োজন যা গুগলের search result পেজে আপনার সাইট ranking জোরদার করতে সহায়তা করে। যা আপনার সাইটে অধিক পরিমানে অর্গানিক ট্রাফিক পেতে কাজ করে। ফলে অধিক মানুষের নিকট আপনার সাইটের বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট নজরে আসার সুযোগ তৈরি হয়। 

অবশেষে ইহাই বলতে হবে, লিংক এবং কনটেন্ট হল এসইও কাজের মেরদন্দ। এরা একটি অপরটির পরিপূরক। যদি আপনি গুগলের বিদ্যমান প্রথম পেজে ফাটল ধরিয়ে নিজের সাইটের জন্য জায়গা দখল করতে চান, তাহলে আপনার সুন্দর কন্টেন্টের সাথে একই বিষয়বস্তুর অন্য সাইটের লিংক তৈরি করতে হবে। এর বিকল্প নেই।

আপনার সাইটের কনটেন্ট অপটিমাইজ করার সময় নিচের বিষয়গুলি লক্ষণীয়:

  • ওয়েব কনটেন্টের জন্য কিওয়ার্ড একটি ফ্যাক্টর:

কিওয়ার্ডস বরাবরের মত এখনোও গুগলের নিকট অতি প্রয়োজনিয় একটি বিষয়। কিন্ত কোন পেজের কিওয়ার্ড তালাশ করার পরিবর্তে বর্তমান সময়ে গুগলের ক্রাউলার আপনার লেখার বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে সেকেন্ডারি কিওয়ার্ডকেও বিবেচনায় রাখে যা ইউজারের search intent বা তথ্য অনুসন্ধানের ইচ্ছার সাথে সম্পর্কিত।

  • আপনি যে বিষয়বস্তুর উপর পোষ্ট লিখেছেন তার টাইটেল, মেটা ডেস্ক্রিপশন, alt attributes, এইচ-১ ট্যাগস এবং URLs ইত্যাদি বিষয়গুলি আপনার content optimization এর জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ।
  • ইউজারের নিকট আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা, প্রভাব এবং বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরিতে ভাল কনটেন্ট কার্যকর ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে google’s search quality guidelines পড়ে নিতে পারেন যে নির্দেশনা ভাল মানের কনটেন্ট তৈরিতে আপনাকে সহায়তা করতে পারে। গুগলের মতে আপনার ওয়েব পেজের কনটেন্টের মান ও পরিমান সন্তোষজনক হওয়া উচিত যা বিষয় বস্তু এবং উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

এক কথায় আপনি এমন এক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত করুন যার মাধ্যমে আপনার সাইটের জন্য অপটিমাইজেশনসহ মান সম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করা যায়। এটি নিশ্চিত করতে হবে যেন তা মানুষের পড়ার উপযোগি হয় এবং একই সাথে search engine এর নজরে optimized হয়। মানুষের পড়ার উপযোগি কথাটির অর্থ হল- তা থেকে পাঠকগন যাতে value পায়।

SERPs এর ক্ষেত্রে UX সিগনালের প্রভাব

SERPs দ্বারা বুঝায় হল Search Engine Result Positions এবং UX হল User Experience. গুগল আপনার সাইটের সাথে কেমন ব্যবহার করবে তা যথেষ্ট পরিমানে নির্ভর করে এই UX এর উপর।

দুর্ভাগ্যবশত: UX অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে যেমন- আপনার সাইটের ইনফ্রাস্ট্রাকচার কেমন, লে-আউট কেমন এবং সার্বিকভাবে কনটেন্টের উপর যার পরিমাপ অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। UX দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোন কোন জায়গায় আপনার সাইটের অভাব রয়েছে তা খুজে বের করা কষ্টসাধ্য হতে পারে।

তথাপি ২০১৮ সালের পর থেকে এসইও খেলায় যদি আপনি জয়লাভ করতে চান, তাহলে UX বিষয়ে আপনাকে মাস্টার হতে হবে। এর জন্য নিচের বিষয়গুলির উপর আপনাকে সতর্কতার সাথে নজর দিতে হবে-

  • Dwel time, CTR এবং bounce rate:

ইহা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যাতে আপনার কনটেন্ট পেজের dwel time এবং click through rate বা CTR বেশী হয় এবং bounce rate কম হয়। গুগল যদিও এই সিগনালগুলিকে প্রত্যক্ষ ranking factor হিসাবে বিবেচনা করেনা তথাপি আপনার সাইট পেজে ইউজার যদি বেশী সময় ধরে অবস্থান করে, তাহলে এর দ্বারা পরোক্ষভাবে আপনার সাইট উপকৃত হতে পারে।

  • সাইট architecture এর উন্নয়ন:

এই ক্ষেত্রে মুল জিনিসটি হল আপনার সাইটের নেভিগেশন সিস্টেম যাতে ব্যবহার বান্ধব হয়। অর্থাৎ search engine এর crowler যাতে সহজেই আপনার সাইটের সমস্ত পেজ-এ প্রবেশ করতে পারে। ইউজারগনও যাতে তাদের কাংখিত পেজ খুজে পেতে কষ্ট না হয়। এর জন্য সাইট architecture যত সহজ ও সাধারণ হবে ইউজার ও search engine এর দৃষ্টিতে তা ততই প্রশংসনীয় হবে।

  • ওয়েবসাইটের স্পিড অপটিমাইজ করা:

আপনি যে প্লাটফর্মই ব্যবহার করুন না কেন, আপনার সাইটের loading speed যাতে সর্বোচ্চ দুই সেকেন্ড বা তারও কম হয়। এজন্য আপনার সাইটের ইমেজ কমপ্রেশন থেকে শুরু করে কোডিং পর্যন্ত বিষয়গুলিকেও অপটিমাইজ করতে হবে। যেমন, জাভাস্ক্রিপ্ট এবং সিএসএস কোডগুলিকে minify করা এবং অব্যবহৃত কোডগুলি পরিহার করা ইত্যাদি। এর সাথে সাথে যে remote server –এ আপনার সাইটটিকে রেখেছেন বা host করেছেন তাও যেন দ্রুততার সাথে কাজ করে।

  • User intent এবং customer journey মনিটর করা:

এর জন্য আপনি একজন UX পেশাজীবির সাহায্য নিতে পারেন। যেহেতু ইউজার এর পছন্দ-অপছন্দ বিবেচনায় রেখে serch engine তথা এসইও সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয়, তাই আপনি একজন UX পেশাজীবিকে সাথে নিয়ে কাজ করলে customer journey এর প্রতিটি ধাপেই ইউজারের digital experience ভাল হবে।

কারণ, আপনার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য শুধমাত্র ট্রাফিক আনা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়, তারা যাতে customer -এ conversion হয়ে আপনার পণ্য বা সেবাটিকে ক্রয় করে নেয়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, UX optimization এসইও জগতের একটি মুল অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। ভিজিটরদের ফোকাস করলে ভবিষ্যতেই আপনার জন্য ভাল হবে যেহেতু গুগল দিন দিন অধিকতর স্মার্ট হচ্ছে এবং ইউজারদের আকাংখাকেও গুরত্বের সাথে দেখছে। এর ফলে, UX এর অন্তত: মুল বিষয়গুলি সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে।

মোবাইল এসইও

যেহেতু গুগল ইনডেক্সিং এর ক্ষেত্রে মোবাইল বান্ধব সাইটের গঠনকে বিশেষ গুরত্ব দিয়েছে এবং search result সব ধরণেই ডিভাইসে দেখিয়ে যাচ্ছে; তাই সময়ের দাবি অনুযায়ি আপনার সাইট মোবাইলের মাধ্যমে যাতে সুন্দর ও মসৃনভাবে চালানো যায় সেজন্য আপনাকে সচেষ্ট হতে হবে।

তথ্য বিশ্লেষন করে জানা যায়, বর্তমান বিশ্বের ৫০% এর চেয়ে বেশী ট্রাফিক মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে তৈরি হয়। তাই গুগলের এমন পলিসি গ্রহন বাস্তব সম্মত হিসাবে এসইও পেশাজীবিদের মাঝে বিবেচিত। আপনার সাইটের গঠন ও বিষয়বস্তু এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে ডেস্কটপ এবং মোবাইল ডিভাইসে সমান তালে চালানো যায়।

এজন্য, আপনার সাইটে responsive design এর সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে যা গুগল কর্তৃক সুপারিশ করা হয়।

মোবাইল এসইও বিষয়টি নিশ্চিতের লক্ষ্যে নিচের বিষয়গুলির প্রতি আপনাকে যত্নবান হতে হবে-

  • মোবইল ইউজারদের জন্য আপনার সাইটের কনটেন্টগুলো অপটিমাইজ করে নিতে হবে।
  • আপনার সাইটের loading speed কমাতে হবে।
  • পুরো সাইট কাঠামো মোবাইল বান্ধব হিসাবে তৈরি করতে হবে।

এক কথায়, সাইটকে মোবাইল ডিভাইসের ব্যবহার উপযোগি করতে হবে, অন্যথায় গুগলে আপনার সাইটের ranking performance ভাল হবে না।

ভয়েস সার্চ এখন উদীয়মান ইস্যু:

সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটে তথ্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এক ধরণের প্রযুক্তিগত বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, আর তা হল ভয়েস সার্চ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারিগন সার্চ ইঞ্জিনে তখ্য খোজার কাজে এটিকে খুব সহজ একটি উপায় হিসাবে বেছে নিয়েছে। ফলে, গুগলও এই বিষয়টির উপর নজর দিয়েছে।

একটি গবেষণা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়, অ্যামেরিকার ৫৫% কিশোর এবং ৪১% প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষেরা তথ্য অনুসন্ধান কাজে ভয়েস সার্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

গুগলের মতে, ২০% এর অধিক মোবাইল সার্চ ভয়েসের মাধ্যমে করা হয়। এর ফলে, ভয়েস সার্চ অপটিমাইজ করার বিষয়ে এখন আপনার সময় এসেছে।

এর জন্য, সুনির্দিষ্টভাবে আপনি নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করতে পারেন-

  • মানুষ সচারাচর নিজ মাতৃভাষায় যে ভাবে কথা বলে থাকে সে অনুযায়ি আপনার কনটেন্টগুলো অপটিমাইজ করুন। তথ্য অনুসন্ধানকারির মনের ভাব অনুযায়ি প্রয়োজন হলে long tail keyword ব্যবহার করুন।
  • Featured snippets এর উপর অপটিমাইজ করুন।
  • বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উপর (FAQ) একটি পেজ তৈরি করুন। এক্ষেত্রে প্রশ্ন এবং উত্তরের জন্য schemas ব্যবহার করুন।

তবে, যদিও ভয়েস সার্চ অপটিমাইজেশন এখনও আবশ্যকিয় হিসাবে গণ্য নয়, তথাপি এটি আপনি করে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে আপনার জন্য ইহা একটি সম্পদ হয়ে যাবে।

বন্ধুগন, এসইও কিভাবে কাজ করে – শিরোনামে প্রকাশিত পোষ্টের তথ্য সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। ধন্য বাদ, এত সময় সাথে থাকার জন্য। 

Leave a Comment